বচনের মূল ধারণা (Concept of Bachan)
১. বচন কাকে বলে? 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ যার অর্থ হলো সংখ্যার ধারণা [১, ৩, ৭]। ব্যাকরণে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কেই বচন বলা হয় [১, ৩, ৮]।
২. বচনের প্রকারভেদ: বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার [১, ৩]:
- একবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয় [১, ৩]। উদাহরণ: সে এলো, মেয়েটি স্কুলে যায়নি [১, ৩]।
- বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয় [২, ৩]। উদাহরণ: তারা গেল, মেয়েরা এখনো আসেনি [৩]।
একবচন ও বহুবচন করার নিয়মসমূহ
একবচনের নিয়ম:
- সাধারণত মূল শব্দটি ব্যবহার করেই একবচন বোঝানো হয় (যেমন: ফুল, ফল, ছেলে) [২]।
- পদের আগে 'এক' বা 'একটি' বসিয়ে (যেমন: এক টাকা, একটি হাঁস) [১, ২]।
- বিশেষ্য পদের শেষে টি, টা, খানা, খানি, গাছি, গাছা ইত্যাদি যোগ করে (যেমন: ছেলেটি, বইখানা, লাঠিগাছা) [১, ২, ৩]।
বহুবচনের নিয়ম (শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী): ১. উন্নত প্রাণীবাচক মনুষ্য শব্দের ক্ষেত্রে: গণ (দেবগণ), বৃন্দ (সুধীবৃন্দ), মণ্ডলী (শিক্ষকমণ্ডলী), বর্গ (পণ্ডিতবর্গ) [৩, ৫]। ২. অপ্রাণীবাচক শব্দের ক্ষেত্রে: পুঞ্জ (মেঘপুঞ্জ), মালা (পর্বতমালা), রাশি (বালুরাশি), রাজি (তারকারাজি), আবলি (পুস্তকাবলী), গুচ্ছ (কবিতাগুচ্ছ), দাম (কুসুমদাম), নিকর (কমলনিকর), নিচয় (কুসুমানিচয়), গ্রাম (গুণগ্রাম) [৪, ৫]। ৩. প্রাণীবাচক ও অপ্রাণীবাচক উভয় ক্ষেত্রে: কুল ( কবিকুল, বৃক্ষকুল), সকল (পর্বতসকল), সব (ভাইসব, পাখিসব), সমূহ (বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ) [৪, ৫]।
বহুবচনের বিশেষ প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য:
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করে (দ্বিরুক্তি): হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ, পাকা পাকা আম, লাল লাল ফুল [৫, ৭, ৮]।
- সংখ্যাবাচক শব্দের প্রয়োগে: অজস্র লোক, অনেক ছাত্র, বিস্তর টাকা [৫, ৭]।
- কখনও বচন লগ্নক ব্যবহার না করেও বহুবচন বোঝানো যায়। যেমন: 'সিংহে বনে থাকে' বা 'মানুষ মরণশীল' [৫, ৭]।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ)
আপনার নোটস থেকে প্রাপ্ত ২০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. একাধিক সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে যুক্ত হয়, তার নাম কী? উত্তর: বচন [৫, ৭]।
২. নিচের কোনটি একবচন? উত্তর: আমি [৬, ৭]।
৩. নিচের কোন বাক্যে বহুবচন ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে? উত্তর: মৌমাছি মৌচাক বানায় [৬, ৭]।
৪. ‘পর্বত’ শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়? উত্তর: মালা [৬, ৭]।
৫. সংখ্যার ধারণা হলো— উত্তর: বচন [৬, ৭]।
৬. ‘ফুল’ শব্দের বহুবচন কী হবে? উত্তর: ফুলগুলো [৬, ৭]।
৭. ‘বৃক্ষ’ শব্দের বহুবচন কী হবে? উত্তর: বৃক্ষসমূহ [৬, ৭]।
৮. বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে এমন উদাহরণ কোনটি? উত্তর: বাজারে লোক কম [৭]।
৯. ‘পণ্ডিত’ শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নকটি যথাযথ? উত্তর: বর্গ [৭, ৯]।
১০. কোন শব্দগুচ্ছটি প্রাণীবাচক ও অপ্রাণীবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়? উত্তর: কুল, সকল, সব, সমূহ [৭, ৯]।
১১. বচন অর্থ কী? উত্তর: সংখ্যার ধারণা [৭, ৯]।
১২. ব্যাকরণের কোন কোন পদের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে? উত্তর: বিশেষ্য এবং সর্বনাম পদ [৮, ৯]।
১৩. ‘লাল লাল ফুল’- বাক্যে কী অর্থে দ্বিরুক্তি হয়েছে? উত্তর: বহুবচন [৮, ৯]।
১৪. কেবল উন্নত প্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে কোন বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়? উত্তর: রা [৮, ৯]।
১৫. কেবল অপ্রাণীবাচক বহুবচনের প্রত্যয় কোনটি? উত্তর: মালা/রাজি [৮, ৯]।
১৬. ‘সাহেব’ শব্দের বহুবচন কোনটি? উত্তর: সাহেবান [৮, ৯]।
১৭. ‘কবিতা’ শব্দের বহুবচন— উত্তর: কবিতাগুচ্ছ [৮, ৯]।
১৮. ‘পর্বত’ শব্দের বহুবচন— উত্তর: পর্বতমালা [৯]।
১৯. কোন দুটি শব্দ কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়? (ইতর প্রাণীর ক্ষেত্রে) উত্তর: পাল ও যূথ [৯]।
২০. কোনটি একবচনের উদাহরণ? উত্তর: শিক্ষক ছাত্রকে পড়াচ্ছেন [৯]।